Microfinance Solution
This side about all type of Microfinance or Microcredit in Bangladesh.
Publish date: 15-09-2024
বকেয়া / খেলাপী পড়ার কারণ গুলো কি কি?
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে বকেয়া / খেলাপী ঋণ বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিকভাবে সংস্থা ঝুঁকিতে পড়ে এবং নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনাগত বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়। এই বকেয়া / খেলাপী ঋণ মুলতঃ ৮টি কারনেই সৃষ্টি হয় যা নিম্নে উপস্থাপন করা হলঃ ক) মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্টাফ পর্যায়ে অনিয়মঃ ১।কর্মীদের সংকীর্ন অভিজ্ঞতার করনে সদস্য ও ঋণী নির্বাচনে ভুল করা। ২। সরেজমিনে প্রকল্প ও সদস্যের সামাজিক পরিমন্ডল যাচাই ব্যতিরেকে ‍ঋণ দেয়া। ৩। প্রকল্পের উপযুক্ততা ও সদস্যের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ না করে ঋণ দেয়া। ৪। বিকল্প আয়ের উৎস বিবেচনায় না নিয়ে ঋণ দেয়া। ৫। যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসায় ঋণ দেয়া। ৬। উপযুক্ত অভিভাবক ও জিম্মাদার নির্বাচন না করে ঋণ দেয়া। ৭। পূর্বের ঋণের লেনদেন ও সঞ্চয় জমাদানের অভ্যাস যাচা্ই না করে ঋণ দেয়া। ৮।সংস্থার ঋণ ও সঞ্চয় সংক্রান্ত নিয়ম-বিধি না জানিয়ে সদস্য করা ও ঋণ বিতরণ করা। ৯। ঋণ প্রদান পরবর্তি ঋণের সদ্ব্যবহার বিষয়ে ঋনীর সাথে যোগাযোগ না করা। ১০। ঋনীর নিকট হতে গোপনে অর্থ ধার নেয়া। ১১। অগ্রিম / অধিক পরিমান কিস্তি একত্রে আদায় করে ঋণ প্রদান করা। ১২। যুক্তি সঙ্গত কারণ না থাকলেও ঋণ পুনঃ তফসিল করা। ১৩। ঋনের কিস্তি হস্তমজুদ করা। ১৪। সদস্যদের ঋণ পরিশোধ পরবর্তি চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ঋণ প্রদান না করা। ১৫। সদস্যের সামর্থ্য যাচা্ই না করে ঋণ বিতরণ করা। ১৬। ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া না মেনে এবং ঋণ প্রস্তাব পরীক্ষা না করে ঋণ বিতরণ করা। ১৭। কিস্তি আদায় করে পাশ বই ও আদায় বিবরণীতে পোষ্টিং না দেয়া। ১৮। ঋণ বিতরণের পূর্বে সদস্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে না জানানো / যোগাযোগ না করা। ১৯। সদস্যদের বিভিন্ন উৎস হতে গৃহীত ঋণের বিষয়টি এবং পরিশোধের ধরণ যাচাই না করে ঋণ দেয়া। ২০। প্রকৃত চাহিদা বিশ্নেষণ না করে শুধুমাত্র দফা বিবেচানয় বর্ধিত ঋণ প্রদান করা। খ) সংস্থার ব্যবস্থাপনা ও পলিসি লেভেলে দূর্বলতাঃ ১। ঋণ কার্যক্রমের দায়িত্ব থাকা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের স্টাফদের ঘন ঘন পরিবর্তন করা ( যা সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রীতার সৃষ্টি করে নানা বিধি জটিলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে)। ২। সংস্থার উচ্চ পর্যায় ও মধ্যম পর্যায়ের স্টাফদের মধ্যে দৃশ্যমান দ্বন্দ বিরাজমান থাকা যা মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ঋণাত্বক প্রভাব ফেলে থাকে। ৩। অঞ্চল / এলাকা ভেদে বসবাসরত জনগণের বিনিয়োগ কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন ঋণ পলিসি প্রনয়ণ না করে সকল স্থানের জন্য একB পলিসির অধীনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা। ৪। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পর্যায় হতে মাঠ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত প্রদানে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন। ৫।তহবিল এবং মানব সম্পদের সহজলভ্যতা / প্রাপ্যতার বিষয়টি বিশ্লেষণ না করে এলাকা ও কার্যক্রম সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত গ্রহন। ৬। যে কোন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীতে প্রাতিষ্ঠানিক ‍উদ্যোগে ঘাটতি থাকা ( এর ফলে এলাকা ভেদে ঋণ সংস্কৃতি সম্বন্ধে সম্যক ধারনা গ্রহনে স্টাফগণ ব্যর্থ হচ্ছে এবং বকেয়া সৃষ্টি হচ্ছে। ৭। সংস্থার ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের অপারেশন টীম, সংস্থার মনিটরিং টীম এবং সংস্থার অডিট টীম এর মধ্যে সমন্বয় ও সুসম্পর্ক বজায় না থাকার কারণে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঝঁকির সন্মুখীন হয়ে মাঠ পর্যায়ে বকেয়া বৃদ্ধিসহ নানাবিধি জটিলতা সৃষ্টি করছে। ৮। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা না করে অন্যকে অনুসরনপূর্বক শুধুমাত্র সম্প্রসারনের লক্ষে বিভিন্ন এলাকার কার্যক্রম সম্প্রসারন করে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সামিল হওয়া। গ)অর্থনৈতিক কারণঃ ১। সদস্যকে সামর্থ্যের অধিক ঋণ প্রদান করা। ২। প্রকল্পের বিগত ৩ থেকেস৬ মাসের বিক্রির অবস্থা যাচাই না করে ঋণ দেয়া। ৩। সদস্যের উৎপাদিত পণ্য / সেবার বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ না করে ঋণ দেয়া। ৪। ঋণঃ মূলধন ন্যূনতম অনুপাত ১ : ২ যাচাই না করে ঋণ বিতরণ। ৫। সদস্যের ব্যবসার ঝুঁকি ও ঝুঁকি মোকাবেলায় সদস্যের সামর্থ্য বিবেচনায় না নিয়ে ঋণ প্রদান। ৬। ঋণ ব্যবহারের সক্ষমতা ইত্যাদি যাচাই না করে ঋণ বিতরণ। ৭। ঋণ গ্রহণের পর ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ ব্যবহার করা। ৮। ঋণ গ্রহীতার পরিবারের আয়ের উৎস থেকে ধারাবাহিক আয় না হওয়া। ৯। একই এলাকায় অন্যান্য এম এফ আই এর সাথে মাত্রাতিরিক্ত ওভারলাপিং করা কিংবা অনিয়মতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা করে ঋণ বিতরণ করা। ঘ) সামাজিক করাণঃ ১। অস্থায়ী ও ভাসমান / ভাড়াটে সদস্যকে ঋণ দেয়া। ২। ঋণের টাকা অন্য সদস্যদেরকে ধার দেয়া। ৩। ঋণ গ্রহণ করে অন্যত্র চলে যাওয়া। ৪। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ঋণ দেয়া। ৫। সদস্যদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে ঋণ দেয়া। ৬। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঋণীর শুধুমাত্র মৌখিক সুপারিশের ভিত্তিতে ঋণ দেয়া। ৭। ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর ঋণের সিলিং বৃদ্ধি করা। ৮। ঋণ আবেদনকারীকে হয়রানী / ঋণ প্রদান দীর্ঘসূত্রীতা। ৯। পাশাপাশি বসবাসকারীদের নিয়ে দল গঠন না করা। ১০। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের জন্যই যথোপযুক্ত নয়, এমন কোন এলাকায় দল গঠন করা। ১১। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি। ১২। পারিবারিক স্থিতিশীলতা নেই এমন পরিবারের সদস্যেকে ঋণ প্রদান। ১৩। অন্য দের খেলাপী সদস্যদের সমন্ধে তথ্য না জেনে কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা ও ঋণ দেয়া। ১৪। সমাজ বিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট রয়েছে এমন পরিবারের সদস্যকে ঋণ দেয়া। ১৫। বৈবাহিক জীবনে বহু বিবাহ রয়েছে এমন সদস্যকে ঋণ দেয়া। ১৬। মামলা মোকদ্দমার রেকর্ড যাচাই না করে ঋণ প্রদান এবং মামলাজনিত কারণে ঋণ গ্রহীতার স্থান ত্যাগ করা। ১৭। দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া, গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্য হলে। ঙ) রাজনৈতিক করাণঃ ১। হরতাল / ধর্মঘট, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ বিতরণ এবং ঋণের কিস্তি আদায়ে বাধাঁগ্রস্ত হওয়া, ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। ২। রাজনৈতিক নেতাদের চাপ বা অনুরোধে অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের ঋণ প্রদান করা। ৩। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সরকারী খাতের ঋণ মওকুফ করা বা ঋণ থেকে অব্যাহতি দেয়া। ৪। সরকার কর্তৃক বস্তি উচ্ছেদ। ৫। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি / প্রশাসন কর্তৃক কিস্তি প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশ। চ) প্রাকৃতিক কারণঃ ১। বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের কারণে। ২। চুরি, ছিনতাই, আগুনের কারণে হঠাৎ করে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়। ৩। দুর্যোগ প্রবন এলাকা বা পাহাড়ী এলাকা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা দুর্গম এলাকায় দল গঠন করা। ৪। আকালের সময়ে ঋণ প্রদান করা। ( বাংলাদেশে আকাল সময় হচ্ছে মার্চ-এপ্রিল এবং অক্টোবর-নভেম্বর যখন কাজের ক্ষেত্র সীমিত থাকে। এ সময় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মূল্য উর্ধ্বগতি থাকে। পারিবারিক ব্যয়-নির্বাহ করার জন্য ঋণী এ সময় সাধারণত তার মূলধন-ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে এ সময়ে তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না।) ৫। শাখা হতে অধিক দুরত্বে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা। ছ) ব্যবহারিক কারণঃ ১। ঋণ গ্রহণ করার পর দলের সভায় অনিয়মিত উপস্থিতি। ২। ঋণ পরিশোধ না করার খোঁড়া অজুহাত দেখানো। ৩। ঋণীর অসদাচরণ। ৪। অনিয়মিত সঞ্চয় জমা। ৫। পলায়নপর মনোবৃত্তি। ৬। অন্যকে অনুসরণ করে নিজেও ঋণ খেলাপী হওয়ার প্রবৃত্তি। জ) সিন্ডিকেশন করে ঋণ গ্রহণঃ ক্ষুদ্র ঋণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমানে খেলাপী হওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে, একজন সদস্য বেশ কিছু সংখ্যক সদস্যের গৃহীত ঋণ তাদের অধিক মুনাফা দেয়ার কথা বলে গোপনে গ্রহণ করা। ফলে সকল ঋণ গৃহীতার কিস্তিই খেলাপী হচ্ছে। অর্থাৎ সিন্ডিকেশন এর মাধ্যমে একজন সদস্য অপরাপর সদস্যদের ঋণ গ্রহণ করে উক্ত ঋণের অর্থ ব্যবহার না করে অথবা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে খেলাপীতে পরিণত হচ্ছে। এক্ষেত্রে একজনের কারণে অধিক সংখ্যক সদস্য খেলাপী হচ্ছে।

40 27 0